এক নজরে
- টাওয়ার ক্রেন: উল্লম্ব মাস্ট + ঘূর্ণায়মান জিব + স্থানান্তরযোগ্য বা উচ্চতা বাড়ানোর সুবিধা
- ডেরিক ক্রেন: স্থির মাস্ট + ঘূর্ণায়মান প্ল্যাটফর্ম + স্থায়ী ভিত্তি
টাওয়ার ক্রেন কী?
একটি টাওয়ার ক্রেন-এ একটি উল্লম্ব মাস্ট থাকে, যার সঙ্গে যুক্ত অনুভূমিক জিবটি টাওয়ারের চারপাশে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরে। এটি ভারী বোঝা তোলা ও সরানোর কাজে ব্যবহৃত হয়।
মাস্টটি মাটিতে স্থাপন করা যায় অথবা কোনো ভবনের কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা যায়।
ভবনের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঁচু হতে পারে এমন টাওয়ার ক্রেনে মাঝখান দিয়ে নতুন অংশ যোগ করা যায়।
টাওয়ার ক্রেনের প্রধান অংশ
টাওয়ারের মতো দেখতে উল্লম্ব কাঠামোটিই হলো মাস্ট। এটি ক্রেনের অন্য সব অংশকে ধরে রাখে এবং ক্রেনটি কত উঁচুতে পৌঁছাতে পারবে তা নির্ধারণ করে।
জিব হলো মাস্টের ওপরের অংশ থেকে প্রসারিত অনুভূমিক বাহু। এটি মূল বুম হিসেবে কাজ করে এবং নির্মাণস্থলজুড়ে মালামাল বহন করে।
জিবের দৈর্ঘ্য বরাবর চলাচল করে এমন একটি ট্রলি ব্যবস্থা থাকে, যার সাহায্যে প্রয়োজনীয় জায়গায় নির্ভুলভাবে মালামাল পৌঁছানো যায়।
কাউন্টারওয়েট জিবের বিপরীত পাশে থাকে, যাতে ক্রেনের ভারসাম্য বজায় থাকে। কংক্রিট বা স্টিলের তৈরি এই ভারী ব্লকগুলো সর্বোচ্চ বোঝা তোলার সময় ক্রেনকে উল্টে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
টাওয়ার ক্রেনের প্রধান ধরন
হ্যামারহেড টাওয়ার ক্রেন-এর অনুভূমিক জিব দেখতে উল্টো ‘T’-এর মতো। জিবটি একটি নির্দিষ্ট কোণে থাকে এবং মাস্টের চারপাশে ঘোরে।
ফ্ল্যাট-টপ টাওয়ার ক্রেন-এ প্রচলিত ক্রেনের মাথা থাকে না, ফলে জোড়া লাগানো ও খুলে ফেলা সহজ হয়।
লাফিং টাওয়ার ক্রেন-এর জিব বিভিন্ন কোণে ওপরে-নিচে ওঠানো যায়। এতে সংকীর্ণ জায়গায় বা অন্য ভবনের কাছাকাছি কাজ করা সম্ভব হয়।
ডেরিক ক্রেন কী?

ডেরিক ক্রেনের গঠন আলাদা।
মাস্টটি একটি ঘূর্ণায়মান প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকে, যেখানে জিব, যন্ত্রপাতি এবং বৈদ্যুতিক অংশগুলো বসানো হয়।
এই ক্রেন একটি নির্দিষ্ট স্থানে থাকে, নির্মাণস্থলের চারপাশে চলাচল করতে পারে না। ডেরিক ক্রেনের ভিত্তির জন্য স্থায়ী ফাউন্ডেশন দরকার, তাই এটি কোথায় বসানো যাবে তা সীমিত।
মাস্ট ও বুমের নকশা
মাস্টটি স্থির থাকে এবং অন্য সব অংশের জন্য নোঙর হিসেবে কাজ করে।
বুমটি একটি কবজার সাহায্যে মাস্টের গোড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে প্রয়োজনমতো বুমটি ওপরে-নিচে সরানো যায়।
জিব ও ঘূর্ণায়মান প্ল্যাটফর্ম
ডেরিক ক্রেনের জিব বুমের আগা থেকে প্রসারিত হয়ে বোঝা পরিচালনায় সহায়তা করে। উত্তোলনের সময় বোঝার অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করতে জিবটি মূল বুমের সঙ্গে কাজ করে।
কিছু ডেরিক ক্রেনে একটি ঘূর্ণায়মান রিং বা ট্রুনিয়ন থাকে, যা বুমকে অনুভূমিকভাবে ঘোরাতে দেয়।
ঘূর্ণায়মান প্ল্যাটফর্মটি মাস্ট ও মাটি বা ভবনের কাঠামোর সংযোগস্থলে, গোড়ায় থাকে।
উত্তোলন ও দড়ির ব্যবস্থা
উইঞ্চ চালালে বোঝা তোলার জন্য দড়ি ড্রামে পেঁচিয়ে ওঠে, আর বোঝা নামানোর সময় দড়ি ছেড়ে দেওয়া হয়।
দড়ির অংশের সংখ্যা বেশি হলে ভারী বোঝা তোলা যায়, তবে গতি কমে যায়।
উত্তোলন সরঞ্জাম-এর মধ্যে রয়েছে ড্রাম, মোটর, ব্রেক ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা—যেগুলো একসঙ্গে কাজ করে।
কখন ডেরিক ক্রেন বা টাওয়ার ক্রেন বেছে নেবেন

সংক্ষেপে, যেখানে সর্বোচ্চ উচ্চতা এবং উত্তোলনক্ষমতা দরকার, সেসব বড় নির্মাণ প্রকল্পে টাওয়ার ক্রেন সবচেয়ে উপযোগী।
সংকীর্ণ জায়গা, ছাদের কাজ এবং কমপ্যাক্ট, স্থির উত্তোলনব্যবস্থা দরকার এমন কাজে ডেরিক ক্রেন বেশি উপযোগী।
কমপ্যাক্ট আকার এবং সরাসরি কাঠামোর ওপর বসানোর সুবিধার কারণে ছাদ ও শহুরে নির্মাণকাজে ডেরিক ক্রেন বিশেষভাবে উপযোগী। উঁচু, মাটিতে স্থাপিত ক্রেনের তুলনায় এটি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প। শিল্পকারখানা, ডক ও কার্গো জাহাজের কাজেও এগুলো অপরিহার্য—স্থায়ীভাবে স্থাপন করা ভারী মাল ওঠানো-নামানোর কাজে নির্ভরযোগ্য ও জায়গাসাশ্রয়ী সমাধান দেয়।
এ ধরনের কাজে টাওয়ার ক্রেন খুব কমই দেখা যায়।
বোঝা বহনক্ষমতার পার্থক্য
টাওয়ার ক্রেনের গঠন ও আকারভেদে উত্তোলনক্ষমতা ভিন্ন হয়। বেশিরভাগ টাওয়ার ক্রেন ৪ থেকে ২০ টন পর্যন্ত তুলতে পারে, তবে বড় মডেলগুলো আরও ভারী বোঝা তুলতে সক্ষম।
ডেরিক ক্রেন সাধারণত সীমিত একটি এলাকায় বেশি বোঝা তুলতে পারে। অনেক ডেরিক মডেলের ১০ টন বা তার বেশি উত্তোলনক্ষমতা থাকে।
এই দুই ধরনের ক্রেনের পার্থক্যের সারসংক্ষেপ
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডেরিক ক্রেন ও টাওয়ার ক্রেনের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
এই দুই ক্রেনের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হলো এদের গঠন এবং চলাচলের ক্ষমতা।
টাওয়ার ক্রেনের তুলনায় ডেরিক ক্রেন সাধারণত কোন কাজে ব্যবহৃত হয়?
জায়গা সীমিত হলে বা ছাদের ওপর থেকে কাজ করতে হলে ডেরিক ক্রেন ব্যবহার করা হয়।
উঁচু ভবন নির্মাণ প্রকল্পে টাওয়ার ক্রেনই সেরা পছন্দ।
টাওয়ার ক্রেনের উত্তোলনক্ষমতা ডেরিক ক্রেনের তুলনায় কেমন?
টাওয়ার ক্রেনের আকার ও গঠনের ওপর নির্ভর করে এর উত্তোলনক্ষমতা সাধারণত বিভিন্ন রকম হয়।






